পাহাড়ি পথে আলোক শোভাযাত্রা
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশে বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিতে ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দিনের এ আয়োজনের প্রথম দিন ২৯ অক্টোবর ২০২৬ রাতে মোমবাতি হাতে প্রায় দুই কিলোমিটার পাহাড়ি পথে শোভাযাত্রা করেন হাজারো পুণ্যার্থী।
রাত ৯টার দিকে মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। গারো পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে অংশগ্রহণকারীদের হাতে জ্বলতে থাকা মোমের আলোয় সীমান্তঘেঁষা এলাকাটি আলোকিত হয়ে ওঠে। পরে মা মারিয়ার সুউচ্চ মূর্তির পাদদেশে পুণ্যার্থীরা সমবেত হন এবং সম্মিলিত প্রার্থনায় অংশ নেন।
- তীর্থোৎসবটি ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজন
- শোভাযাত্রায় অংশ নেন হাজারো পুণ্যার্থী
- উৎসব ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
প্রার্থনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা
তীর্থোৎসবে আসা পুণ্যার্থীদের কেউ পাপ স্বীকার করে মুক্তির আশায় প্রার্থনা করেন, কেউ প্রিয়জনের রোগমুক্তি কামনা করেন। পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্যও অনেকে প্রার্থনা করেন। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘মানবতার জননী: ফাতেমা রানী মা মারিয়া’।
২৯ অক্টোবর বিকেল ৪টায় পবিত্র খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে আরাধ্য সাক্রামেন্টের আরাধনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মধ্যরাতে নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
“তীর্থে আসা ভক্তরা মোমবাতি জ্বালিয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দেন। সবাই নিজের পাপ স্বীকার করে মুক্তির আশায় প্রার্থনা করেন। ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তীর্থের গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে। নতুন দিনের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে সবাই হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান।” — পুণ্যার্থী ক্লোডিয়া নকরেক
দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীর সমাগম
সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশ-বিদেশের প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী এবারের তীর্থোৎসবে সমবেত হয়েছেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে তীর্থস্থানটি সম্প্রীতির মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
আয়োজকেরা জানান, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ সকালে ৮টায় জীবন্ত ক্রুশের পথ এবং ১০টায় মহাখ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে দুই দিনের এ আয়োজনের শেষ আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব ঘিরে নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তীর্থস্থানের ইতিহাস
বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লিটি ভারত সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর ধর্মপল্লিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে স্থানটিকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে গড়ে ওঠা এ ধর্মপল্লিতে প্রতিবছর তীর্থোৎসবের আয়োজন করা হয়।