চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত ৫১তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া প্রার্থীরাই এই নিয়োগ পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আবেদন ও ফি জমার প্রক্রিয়া
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান আবেদনকারীর সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন গ্রহণের সময়সীমা আগেই শেষ হয়েছিল। পরে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল ২৮ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
নিয়োগ পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনপত্র পূরণ করলেই তা চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়নি। সফলভাবে ফি জমা দেওয়ার পরই আবেদন সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ফি জমা দেওয়া ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
যে পদে নিয়োগ দেওয়া হবে
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্য নিয়ে এই বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক ক্যাডার পদ পূরণ করা হবে। পদগুলো হলো:
- ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন
- ৩০০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন
স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত চাহিদাপত্র পাওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক-সংকট দূর করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়েছে।
পরীক্ষার ধরন
প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ ও উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালে পদায়নের লক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ বিসিএসে দীর্ঘ মেয়াদি লিখিত পরীক্ষা রাখা হয়নি। প্রার্থী বাছাই হবে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার মাধ্যমে।
অর্থাৎ, আবেদন শেষ হওয়ার পর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষাকেই প্রধান ধাপ হিসেবে রাখা হয়েছে। পিএসসির তথ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই শেষে ফি জমা দেওয়া প্রার্থীরাই প্রিলিমিনারিতে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন।
স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকেই সরকার চিকিৎসকদের জন্য এই বিশেষ বিসিএস আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।
এই বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগের পর তাঁদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পদায়নের লক্ষ্য রয়েছে। আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে চূড়ান্তভাবে ফি জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।