সামাজিক সম্প্রীতি ও সুষ্ঠু উদযাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান।
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্ণনা
মন্ত্রী বলেন যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক তদারকি দুর্গাপূজার সময় শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং চালানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য নাশকতামূলক পরিকল্পনা সনাক্ত করে প্রতিহত করা হয়েছে।
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকির ফলেই এ বছর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে”, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন।
উদ্যোগ ও সংখ্যাসূচক তথ্য
মন্ত্রী জানান, এবার দেশে মোট ৩৩,৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সরকার ভোজন ও সুবিধাসহ উৎসবকে আনন্দমুখর করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে মণ্ডপসমূহকে সহায়তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করেছেন।
| বিষয় | এবার | পূর্বে (সূত্র অনুযায়ী) |
|---|---|---|
| মণ্ডপের সংখ্যা | ৩৩,৮৫১ | — |
| প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ | ৫ কোটি টাকা | ৪ কোটি টাকা |
| প্রতিটি মণ্ডপের চাল বরাদ্দ | ৬০০ কেজি | — |
ছুটি ও উৎসব পরিবেশ
সরকার কর্তৃক ঘোষিত ছুটির ব্যবস্থায় এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মোট পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন; এর মধ্যে সরকারি ছুটি ছিল তিন দিন। মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ছুটি ও প্রশাসনিক সেবা উৎসবকে আরও সুসংগঠিত ও আনন্দময় করেছে।
ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ
প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী গত কয়েক বছর ধরেই দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার দিকেও ইঙ্গিত করেন এবং বলেন যে এবারের ঘটনা প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কিছু নাশকতামূলক পরিকল্পনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদঘাটন ও নস্যাৎ করা হয়েছে এবং তাই ব্যাপক উৎসব-উপভোগ নিশ্চিত করা গেছে।
- মন্ত্রণালয় বলছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে যে ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা দেখা যেত তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- প্রতিটি মণ্ডপে চাল বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন যে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীর বিবৃতিগুলোতে উল্লেখ রয়েছে যে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে কাজ করে এবারের দুর্গাপূজা উদযাপনকে শান্তিময়, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সক্ষম হয়েছে।