সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে কাজে যোগ দেননি শ্রমিকেরা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে নির্ধারিত দিনে মজুরি না পাওয়ায় ৮৫০ জন শ্রমিক কর্মবিরতিতে গেছেন। সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও টাকা না পেয়ে শ্রমিকেরা খালি হাতে বাড়ি ফেরেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার তাঁরা বাগানের কাজে যোগ দেননি।
শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফেরার বিষয়ে তাঁরা অনাগ্রহী। সাপ্তাহিক মজুরির ওপর নির্ভর করেই তাঁদের অনেকের পরিবারের খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চলে। নির্ধারিত সময়ে টাকা না আসায় পরিবারগুলো আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
- নোয়াপাড়া চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৮৫০
- সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকেরা টাকা পাননি
- বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলার কথা জানিয়েছেন শ্রমিকনেতারা
বাগানের আর্থিক সংকটে উৎপাদনব্যবস্থায় চাপ
নোয়াপাড়া একসময় দেশের পরিচিত ও সুনামধন্য চা বাগান হিসেবে বিবেচিত হলেও কয়েক বছর ধরে সেখানে নানা সমস্যা চলছে। বাগান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ব্যাংকঋণ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক চাপে রয়েছে। সংকটের সময় বাগানের গ্যাস সংযোগও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার প্রভাব পড়ে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটি প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আবার চালু করা হয়। শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং চায়ের বিক্রয়মূল্য প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় প্রতি বছর লোকসান হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
শ্রমিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের
শ্রমিকনেতা খেলু নায়েক বলেন, বাগানের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে এবং মালিকপক্ষ নিয়মিত মজুরি দিতে পারছে না। তাঁর ভাষ্য, সপ্তাহ শেষে পাওয়া অর্থ দিয়ে শ্রমিকেরা চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন; তাই নির্ধারিত দিনে মজুরি না পেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
“সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না পেয়ে সবাই খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এখন মজুরি না পেলে আমাদের চলবে কীভাবে?” — খেলু নায়েক, শ্রমিক নেতা
নোয়াপাড়া চা বাগানের সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, মজুরি কবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ শ্রমিক প্রতিনিধিদের স্পষ্ট কোনো উত্তর দেয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মজুরি না পাওয়ার কারণেই মঙ্গলবার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যাননি এবং বাগানে দীর্ঘদিন ধরে চলা সমস্যায় তাঁদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষা
কমেড নায়েক জানান, কর্মবিরতি কত দিন চলবে তা নির্দিষ্ট নয়। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হলে কাজে ফেরার আগ্রহ রয়েছে তাঁদের। বিষয়টি মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন এবং শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাগান কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ঋণসংকট, জ্বালানি সংযোগ বন্ধ থাকা, কারখানা পরিচালনার ব্যয় এবং চায়ের বিক্রয়মূল্য—সব মিলিয়ে পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক মজুরি আটকে যাওয়ায় উৎপাদন ও শ্রমিকজীবন—দুই ক্ষেত্রেই সংকটের প্রভাব দেখা দিয়েছে।