অভিযোগ ও এলাকার বিস্তার
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গারো পাহাড়ের নদী-ঝরনা ও পাহাড় কেটে পাথর-বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গান্ধিগাঁও, দরবেশতলা, হালচাটি, মালিটিলা, বাকাকুড়া, গজনী ও ছোট গজনীসহ এলাকা জুড়ে উত্তোলন ও অবৈধ স্তূপ রাখা হচ্ছে।
উত্তোলন-বিতরণ কিভাবে হচ্ছে
স্থানীয়দের মতে, দিনে টুকরিতে করে পাথর-বালু সংগ্রহ করা হয় এবং রাতে বিভিন্ন যানবাহনে করে উপজেলা ও জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। তারা বলছেন, রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত উত্তোলন ও পরিবহন চলে।
পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাব
স্থানীয় সচেতন মহল বলেছে যে পাহাড় কাটা ও নিকষের ফলে পাহাড়ি এলাকার মাটি ও ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী-ঝরনার তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও পানিপ্রবাহে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অবৈধ পরিবহনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে; ৮ সেপ্টেম্বর রাতের একটি ঘটনায় বালুভর্তি মাহিন্দ্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক কিশোর চালকের মৃত্যু ঘটেছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে; অভিযানে বালুবাহী যানবাহন আটক, জরিমানা এবং জড়িত ব্যক্তিদের সাজা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযানের পরও উত্তোলন বন্ধ হয়নি। তারা জানায়, অভিযানের সময় সাময়িক রোধ থাকলেও রাতভর কার্যক্রম চলে।
- স্থানীয়রা বলছেন, বন কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগও রয়েছে।
- অবৈধ উত্তোলনের ফলে পর্যটন সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; গজনী অবকাশ কেন্দ্র এলাকা এ সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
| বিষয় | অবস্থা/তথ্য |
|---|---|
| প্রধান অভিযোগ | পাহাড় কেটে ও নদী-ঝরনা থেকে পাথর-বালু উত্তোলন |
| ঘটনা সময় | ৭–৮ সেপ্টেম্বর (উল্লেখিত দুর্ঘটনা) |
| ফলপ্রসূ প্রশাসনিক পদক্ষেপ | ভ্রাম্যমাণ আদালত, যান আটক ও জরিমানা |
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন রাতভর লাখ লাখ টাকার মূল্যমানের পাথর-বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র ‘গজনী অবকাশ’ থেকে সরকার রাজস্ব পেয়ে থাকে; স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে অবৈধ উত্তোলনের ফলে পর্যটন ও অর্থনীতিও প্রভাবিত হবে।
স্থানীয়রা আরও জানান যে উত্তোলনকারীদের কার্যক্রম ঠেকাতে প্রশাসনকে কার্যকর ও ধারাবাহিক তৎপরতা চালাতে হবে; কিন্তু তারা বলেছে যে অপ্রতুল নজরদারি কারণে সমস্যা অব্যাহত আছে।
প্রভাবিত এলাকা ও দায়িত্ব
অভিযোগ অনুযায়ী উত্তোলন চলছে সীমান্তবর্তী গ্রাম ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে; ফলে বন বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনেরও তদারকি জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।