মেঘনা ব্যাংক পিএলসি মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে। ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টায়ার-২ মূলধন বাড়াতে উদ্যোগ
ব্যাংকটির ভাষ্য, বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা, আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়গুলোকে উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত করেছে মেঘনা ব্যাংক।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, এই অর্থায়নের ফলে শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, বিদ্যমান শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা থাকার কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বন্ডের মেয়াদ ও কুপন রেট
মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডটির মেয়াদ সাত বছর। এর কুপন রেট স্থির নয়; বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হবে। সেই রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বন্ডের পরিমাণ | ৪০০ কোটি টাকা |
| মেয়াদ | সাত বছর |
| ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কুপন রেট | বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ |
| অভিহিত মূল্য | প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা |
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বন্ডটির প্রযোজ্য কুপন রেট ছিল বার্ষিক ১২.০৫ শতাংশ। ওই হারের মধ্যে রেফারেন্স রেট ছিল ৯.০৫ শতাংশ এবং মার্জিন ছিল ৩ শতাংশ। রেফারেন্স রেট বদলালে পরবর্তী সময়ে কুপন রেটও পরিবর্তিত হবে।
যোগ্য বিনিয়োগকারী ও তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা
বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যুর জন্য অনুমোদিত হয়েছে। প্রযোজ্য আইন ও ইস্যুর শর্ত মেনে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
মেঘনা ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্তি হলে পুঁজিবাজারে বন্ড কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হবে। ব্যাংকটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বন্ড বাজারের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন পাওয়ায় বন্ড ইস্যুটি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও শর্ত মেনে এগোনোর সুযোগ পেয়েছে। ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্ডটির অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মেঘনা ব্যাংক।