চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান। ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বেইজিংয়ের ওই নীতিকে সমর্থন করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রথম দেশ পাকিস্তান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের উড়োজাহাজ চলাচলে অনুমতি
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ এক চীন নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের আওতাধীন মূল ভূখণ্ডের বিমান সংস্থাগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে। একই সুযোগ তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোকে দেওয়া হবে না।
“পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে এখন থেকে চীনের গণপ্রজাতন্ত্রের উড়োজাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে তাইওয়ানের উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো এ সুবিধা পাবে না।” — খাজা আসিফ, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
তাইওয়ানের বিমান রুট পরিবর্তন
উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের শুরু থেকেই তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলো পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প রুট নিতে শুরু করে। রোববারের মধ্যে চায়না এয়ারলাইনস লিমিটেড এবং ইভা এয়ারওয়েজ করপোরেশন পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে দেয়।
ব্লুমবার্গের প্রশ্নের জবাবে বিমান সংস্থা দুটি কোনো মন্তব্য করেনি। তাইওয়ানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও ফ্লাইটের পথ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
- পাকিস্তানের আকাশসীমায় তাইওয়ানের বিমান চলাচল বন্ধ হয়েছে
- চীনের মূল ভূখণ্ডের বিমান সংস্থাগুলো চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে
- চায়না এয়ারলাইনস ও ইভা এয়ারওয়েজ বিকল্প রুট নিয়েছে
বেইজিং ও তাইপের পরস্পরবিরোধী অবস্থান
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত চীনের নিজস্ব বিধিনিষেধের চেয়েও কঠোর। চীন তার নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে থাকে। কিন্তু পাকিস্তান তাইওয়ানের সংস্থাগুলোর জন্য পুরো আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের অংশ এবং বিচ্ছিন্ন একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে। বিপরীতে তাইপের অবস্থান হলো, তাইওয়ান একটি স্বাধীন ভূখণ্ড। ‘এক চীন’ নীতিতে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে বেইজিংকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
পাকিস্তান-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
ওই নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ১৯৫১ সালে পাকিস্তান তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে পাকিস্তানে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশও চীন। মঙ্গলবার দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চীন-পাকিস্তান তথ্য করিডর চালু করেছে বেইজিং।