মিয়ানমারের রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যে সামরিক বাহিনীর পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলাগুলোতে আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে।
রাখাইনের আবাসিক এলাকায় হামলা
১ নভেম্বর রোববার রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও, ম্রাউক-উ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ শহরে হামলা চালানো হয়। এসব শহরের আবাসিক এলাকা এবং একটি মাতৃসদন কেন্দ্রেও বিমান হামলা হয়েছে। এতে মোট ১২ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনাদোলুর প্রতিবেদনে আলাদা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে চার শহরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানার কথা জানানো হয়েছে।
স্কুলে পুষ্টি কর্মসূচিতে হামলা
এর আগের দিন, ৩১ অক্টোবর শনিবার কারেন্নি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ছুটির দিনে শিশুদের জন্য আয়োজিত পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে লোকজন জড়ো হয়েছিল।
ওই হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৫ এবং আহতের সংখ্যা ৩২ বলে জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লড়াইয়ের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সংঘাত
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর মিয়ানমারে সংঘাত তীব্র হয়। এরপর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী লড়াই করছে।
রাখাইন রাজ্যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বসবাস। প্রধানত মুসলিম এই জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপট
রাখাইনে নতুন করে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত চলছে। ওই রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনাকেও প্রভাবিত করে আসছে।
দ্য ইরাবতীর ২ নভেম্বরের প্রতিবেদনে হামলাগুলোর স্থান, হতাহত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং লইকাওয়ের স্কুলে শিশুদের উপস্থিতির তথ্য জানানো হয়েছে।