চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন বিষয়
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষার চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। বুধবার ৪ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক পাঠচক্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি।
‘হবিগঞ্জ জেলাধীন স্কুল ও পাঠাগারসমূহে আনন্দ পাঠের আসর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নতুন বিষয় দুটির কথা বলেন। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে পাঠাগার ও পাঠচর্চাকেন্দ্রিক একটি আয়োজনের মঞ্চ থেকে।
পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ফল
ববি হাজ্জাজ বলেন, সংযোজিত দুটি বই ছাড়া প্রাথমিকের বাকি সব পাঠ্যবই ২৫ নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে যাবে। নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার দিন হিসেবে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণের কথা জানান তিনি।
একই দিনে প্রাথমিকের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সংযোজিত ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ বিষয়ের বই দুটি কবে বিদ্যালয়ে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে বক্তব্যে আলাদা কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
সিলেট বিভাগে শিক্ষার প্রসঙ্গ
সিলেট বিভাগে শিক্ষার হার তুলনামূলক পিছিয়ে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা কম। তবে আট বছর বয়সেও যারা প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি হতে পারেনি, তাদের জন্য ‘আলো’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের বিশেষ ব্যবস্থায় ভাষা ও গণিত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিশুদের সাক্ষরতা অর্জনের পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ বিষয় চালুর ঘোষণা
- সংযোজিত দুটি বই ছাড়া অন্য পাঠ্যবই ২৫ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছানোর কথা
- ‘আলো’ প্রকল্পে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজমীন। পাঠচক্রটির আয়োজন করা হয় হবিগঞ্জ জেলার স্কুল ও পাঠাগারগুলোকে কেন্দ্র করে আনন্দ পাঠের চর্চা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যক্রম, নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ এবং বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়ে তথ্য জানানো হয়।