তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ
হবিগঞ্জের দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মিরতিংগা চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। মজুরি না পেয়ে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে অনেক শ্রমিক পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।
মজুরি বন্ধ থাকার পাশাপাশি চারটি বাগানের কার্যক্রমও তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। বাগানের ভেতরে একাধিক কর্মসূচি করেও প্রতিকার না পাওয়ার পর শ্রমিকেরা ১ নভেম্বর ২০২৬ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন। পরে শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন।
পাঁচ হাজার শ্রমিকের পাওনা দুই কোটি টাকা
স্মারকলিপিতে শ্রমিকেরা জানান, বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে এরিয়া বাবদ জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে পাওনা রয়েছে। চার বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের এই পাওনা মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। মজুরি বন্ধ থাকায় এই অর্থ না পাওয়ায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
- চারটি চা-বাগানে মজুরি বন্ধ রয়েছে তিন সপ্তাহ
- প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা পাওনা
- বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে মোট পাওনা প্রায় ২ কোটি টাকা
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের মজুরি থেকে কেটে নেওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের চাঁদা এবং মালিকপক্ষের অংশসহ ৪৭ মাসের অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ড কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়নি। এর ফলে তাঁরা প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চিকিৎসা ও বাসস্থানসেবায় সংকট
স্মারকলিপিতে চা-শ্রমিকেরা বাগানের চিকিৎসাব্যবস্থার নাজুক অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁদের ভাষ্য, ওষুধ সরবরাহসহ চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের বাসস্থান, ঘরবাড়ি, দরজা-জানালা ও ছাউনি নির্মাণ এবং পূর্ণ মেরামতের কাজও বন্ধ হয়ে আছে।
মানববন্ধনে শ্রমিকেরা বলেন, তাঁরা নিয়মিত শ্রম দিলেও উপার্জনের অর্থ আটকে থাকায় সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করতে পারছেন না। তাঁরা বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং চিকিৎসা, বাসস্থান ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দাবি করেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের বক্তব্য
“দেউন্দি টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন অজুহাতে চা-শ্রমিকদের হয়রানি ও বঞ্চিত করছেন। শ্রমিকেরা রোদ-বৃষ্টিতে টানা কাজ করে আসছেন।” — নৃপেন পাল, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, চার বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসাব্যবস্থাও একেবারেই বেহাল। শ্রমিকেরা কাজের পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।