সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর থেকে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। বাঁধের ক্লোজার ও স্লুইস গেট দিয়ে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগে বোরো ধানের চারা রোপণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে মাটিয়ান হাওরের নাইন্দা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী।
বাঁধ ও স্লুইস গেট দিয়ে পানি নামছে
পরিদর্শনের সময় ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুর শাখার সার্ভেয়ার জুবায়ের আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, শনির, মাটিয়ান, টাঙ্গুয়ার, মহালিয়া ও গুরমার হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরের পানি বাঁধের ক্লোজার ও স্লুইস গেট দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে পানি কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য হিসেবে ইউএনওর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখনও বোরো ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হয়নি। এর আগে হাওরের পানি কমে গেলে নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণে সমস্যায় পড়তে পারেন কৃষকেরা।
পাউবোকে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি
হাওরের পানি দ্রুত কমে যাওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছেন রিপামনি দেবী। চিঠিতে বাঁধের ক্লোজার ও স্লুইস গেট দিয়ে যাতে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
- পানি কমছে শনির, মাটিয়ান ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন জলাভূমিতে
- বোরো চারা রোপণের সময়ের আগে পানি নেমে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা
- ক্লোজার ও স্লুইস গেট নিয়ন্ত্রণে পাউবোর পদক্ষেপ চেয়েছে উপজেলা প্রশাসন
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, হাওরের পানি দ্রুত নেমে গেলে কৃষিকাজ ব্যাহত হতে পারে। বোরো ধানের চারা রোপণের জন্য হাওরে যে পানির অবস্থান দরকার, তার আগেই পানি কমে গেলে কৃষকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আবাদে সমস্যা হতে পারে বলে প্রশাসনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিদর্শনে প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা
নাইন্দা বাঁধ পরিদর্শনে ইউএনওর সঙ্গে থাকা পাউবোর সার্ভেয়ারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাওরের পানি কমে যাওয়ার পরিস্থিতি দেখেন। উপজেলার একাধিক হাওরে একই ধরনের প্রবাহের কথা জানিয়ে পানি ধরে রাখতে বাঁধের বিভিন্ন ক্লোজার ও স্লুইস গেটের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
ইউএনওর কার্যালয় থেকে পাউবোর সংশ্লিষ্ট শাখাকে পাঠানো চিঠিতে হাওরের পানি অতিরিক্ত মাত্রায় বেরিয়ে যাওয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। চিঠির বিষয়বস্তুতে শনির, মাটিয়ান, টাঙ্গুয়ার, মহালিয়া ও গুরমার হাওরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।