কোথা থেকে যাতায়াত করা যাবে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনে চলাচল করবে। নৌযান মালিকদের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন নিতে বলা হয়েছে।
ভ্রমণের সময়সীমা ও সংখ্যা
চিঠিতে বলা হয়েছে, ভ্রমণমৌসুম শুরু হবে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এবং চলবে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। ওই সময়ে দ্বীপে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ৩,৫০০ পর্যটক যেতে পারবেন, যা আগের অনুমোদিত দৈনিক দুই হাজারের পরিবর্তে বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আন্দাজ করেছে, নির্ধারিত সময়ে যদি সর্বোচ্চ সংখ্যা প্রতিদিন ভ্রমণ করে, তাহলে মোট ভ্রমণকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪,৭২,৫০০ জন।
ফি ও টিকেট পদ্ধতি
প্রতিটি ভ্রমণকারীকে দ্বীপে প্রবেশের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ হিসেবে ১০০ টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। টিকেট কেবল বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ক্রয়যোগ্য হবে এবং টিকেটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকতে হবে; কিউআর কোড ছাড়া টিকেট অবৈধ বলে গণ্য হবে।
রাতের থাকা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্তে উল্লেখ আছে, নভেম্বর মাসে কেবল দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে; রাত্রিযাপন প্রথম পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। দ্বীপের সংবেদনশীল পরিবেশ রক্ষায় আগের বিধিনিষেগুলো বহাল থাকবে—সৈকতে রাতে অতিরিক্ত আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বা বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ইত্যাদি জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- পলিথিন বহন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী (চিপস প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান-শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) ব্যবহার করা বারণ করা হয়েছে।
- পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধও এবারে বজায় থাকবে।
মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা—যেমন ট্যুরিজম বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট ধাপগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।