হামলার ঘটনায় প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব। শুক্রবার ৩০ অক্টোবর প্রেসক্লাবের দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক ওমর ফারুকের সই করা এক বিবৃতিতে সংগঠনটি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এখলাছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্নাসহ নেতারা ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের কাজের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
“পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালন এবং তথ্য জানার নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।”
হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহের সময় হামলা
সিলেটভিউ ২৪ ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার ও দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার সময় হামলার শিকার হন। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনের এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের বিবরণ অনুযায়ী, হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হন। ঘটনাটি ঘটে রোগীর স্বজনদের মারধরের তথ্য সংগ্রহের সময়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই কর্মবিরতিতে যান।
চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে বলে জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিবাদবার্তায় উল্লেখ করা হয়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়েন বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতারা ওই কর্মসূচির প্রতি সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেন।
যাঁরা নিন্দা জানিয়েছেন
প্রতিবাদবার্তায় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও কলামিস্ট এমএ মালেক চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি শ্রীকান্ত পাল, সহসভাপতি রিপন আহমদ এবং সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ এম আব্দুল্লাহ আল মামুন নিন্দা জানান।
- সাবেক সহসভাপতি রহমত আলী হেলালীও বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়েছেন
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম লস্করসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এতে যুক্ত ছিলেন
- দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক ওমর ফারুক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন
এ ছাড়া রহমত আলী হেলালী, সীমান্ত তরফদার মাসুদ, কেএম মামুন, আল হাছিব তাপাদার, ইউনুস আলী, মাসুম খান, আবু বকর ফয়ছল, অপূর্ব পাল, আহমদুল হক চৌধুরী বেলাল, এমএ ওয়াহিদ চৌধুরী, কয়েস আহমদ ও জাহাঙ্গীর সাহেদও হামলার নিন্দা জানান।