সিলেট শহর থেকে এক দিনের ভ্রমণে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নদীর সৌন্দর্য একসঙ্গে দেখতে জকিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার কাজলসার ও বারঠাকুরী ইউনিয়নে ছড়িয়ে থাকা পুরোনো স্থাপনা, সাধকের সমাধি, নদীর মোহনা ও কুশিয়ারা তীরের দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করে।
সিলেট শহর থেকে জকিগঞ্জের পথে
শুক্রবার সকালে সিলেট শহরের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে জকিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা যায়। বাসভাড়া হিসেবে ১৫০ টাকা দিয়ে যাত্রা শুরুর কথা জানানো হয়েছে। শহরের ব্যস্ত এলাকা পেরিয়ে বাস এগোতে থাকলে পথের দৃশ্যও বদলে যায়।
এক দিনের পরিকল্পনায় জকিগঞ্জের কয়েকটি ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম বাজারসংলগ্ন সাজিদ রাজার বাড়ি ও মসজিদ, বারঠাকুরী ইউনিয়নের শিতালং শাহর সমাধি, আমলশীদ গ্রামের তিন নদীর মোহনা এবং কুশিয়ারা নদীর তীরের জকিগঞ্জ কাস্টম ঘাট উল্লেখযোগ্য।
সাজিদ রাজার বাড়ি ও মসজিদ
সুরমা নদীর তীরে আটগ্রাম বাজারের কাছে অবস্থিত সাজিদ রাজার বাড়িটি প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। পুরোনো স্থাপনাটি এখনো অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। বাড়িটির দেখভালের জন্য রাজার পরিবারের কেউ না থাকলেও একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, একসময় দেওয়ান হাসন রাজাসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এই বাড়িতে আসতেন এবং আড্ডা দিতেন। বাড়ির পাশেই রয়েছে সাজিদ রাজার মসজিদ। জানা যায়, ধর্মপ্রাণ সাজিদ রাজা ১৭৪০ সালে বাড়ির সামনে মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরে এটি ‘সাজিদ রাজার মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়; স্থানীয়ভাবে ‘আটগ্রাম বড় মসজিদ’ নামেও মসজিদটির পরিচিতি রয়েছে।
পানির সংকট মোকাবিলায় মসজিদের পাশে একটি বড় দিঘি খনন করেছিলেন সাজিদ রাজা। পুরোনো বাড়ি, মসজিদ ও দিঘিকে ঘিরে আটগ্রাম এলাকায় ঐতিহাসিক স্থাপনার একটি ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
শিতালং শাহর সমাধি
বারঠাকুরী ইউনিয়নের রাস্তার পাশে ‘শীতলাঙ্গীয়া শাহী ঈদগাহ ও মাদ্রাসা’ লেখা একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। সেখান থেকে এগিয়ে গেলে আঠারো শতকের সুফি সাধক ও মরমি কবি শিতালং শাহর সমাধিতে পৌঁছানো যায়। সমাধির ফলকে তাঁর প্রকৃত নাম হিসেবে মোহাম্মদ ছলীম উল্লাহ লেখা রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের করিমগঞ্জে জন্ম নেওয়া শিতালং শাহ আধ্যাত্মিক সাধনা ও মরমি সংগীতের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর সমাধিস্থলটি বারঠাকুরী এলাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিন নদীর মোহনা ও কাস্টম ঘাট
শিতালং শাহর সমাধিস্থল থেকে পাঁচ থেকে সাত মিনিট হাঁটলে আমলশীদ গ্রামের তিন নদীর মোহনায় যাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি ‘তি-গাঙ্গা’ নামে পরিচিত। এখানে ভারত থেকে আসা বরাক নদী সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়েছে। বিস্তৃত জলরাশি, শীতল বাতাস ও খোলা আকাশ মিলিয়ে মোহনাটি নদীপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়।
মোহনার পাশে সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক বারঠাকুরী গায়েবি দিঘির অবস্থান ছিল। কালের পরিবর্তনে দিঘিটির দৃশ্যমান অস্তিত্ব এখন আর নেই; সেখানে বিস্তৃত কৃষিজমি রয়েছে।
কুশিয়ারা নদীর তীরের জকিগঞ্জ কাস্টম ঘাট থেকেও নদীর দৃশ্য দেখা যায়। ঘাটের ওপারে ভারতের করিমগঞ্জ দেখা যায় এবং নদীপথে নৌকায় মানুষের পারাপারের দৃশ্য চোখে পড়ে। সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে ঘাটটির আলাদা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- সাজিদ রাজার বাড়ি কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম বাজারের কাছে
- শিতালং শাহর সমাধি বারঠাকুরী ইউনিয়নে
- তিন নদীর মোহনা আমলশীদ গ্রামের তি-গাঙ্গা এলাকায়