সিলেটের জকিগঞ্জে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। আহত পরিবারের কর্তা নোমান আহমদ (৪৮) গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সকালের ঘটনায় তিনজন আহত
রোববার ১ নভেম্বর সকালে এবং ওই দিন দিবাগত রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হানিগ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি নোমান আহমদের মালিকানাধীন জায়গার গাছ ও বাঁশ কাটতে গেলে তিনি বাধা দেন।
এ সময় কবিরুল হাসানের ছেলে ও আরও কয়েকজনসহ ৮ থেকে ১০ জন নোমান আহমদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নোমানকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী ও ষষ্ঠ শ্রেণির মেয়েকেও রুইল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আহত তিনজন জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
- ঘটনাস্থল: কসকনকপুর ইউনিয়নের হানিগ্রাম
- আহত: একই পরিবারের তিনজন
- গুরুতর আহত নোমানকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে
রাতে নোমানের ওপর আবার হামলার অভিযোগ
নোমান আহমদের পরিবারের অভিযোগ, সকালের ঘটনার পরও হামলা থামেনি। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ইউপি সদস্যের নির্দেশে তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন ব্যক্তি নোমান আহমদের বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেন। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নোমানের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং মারধর করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোমানের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান বলে জানানো হয়েছে। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং গুরুতর আহত নোমানকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
ইউপি সদস্যের বক্তব্য
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নোমানের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এর আগে কবিরুল হাসান ও তাঁর ছেলে নোমান আহমদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের উচ্ছেদ করার জন্য একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
“আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন ঘটনা সাজানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তবে রোববার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। ওই ঘটনায় আমিও আহত হয়েছি।” — ইউপি সদস্য কবিরুল হাসান
অভিযোগ অস্বীকার করে কবিরুল হাসান বলেন, তাঁকে ফাঁসাতে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তবে সকালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
পুলিশের উদ্ধার অভিযান
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নোমান আহমদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।