বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর
হবিগঞ্জের বিভিন্ন বসতবাড়ি ও লোকালয় থেকে উদ্ধার করা ১৩৭টি সাপ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬ সকালে সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায় বন বিভাগের কার্যালয়ে সাপগুলো হস্তান্তর করা হয়। হবিগঞ্জ জীববৈচিত্র্য ফেডারেশনের উদ্যোগে সাপগুলো বন বিভাগের কাছে দেওয়া হয়।
সাপগুলো গ্রহণ করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন। তিনি জানান, সাপের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এগুলো রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ বিভিন্ন বনে অবমুক্ত করা হবে। তবে অবমুক্তির আগে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে।
“সাপ বেশি হওয়ায় এগুলো রেমা-কালেঙ্গা সাতছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকাসহ বিভিন্ন বনে অবমুক্ত করা হবে।” — রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন
বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য রবি কাস্তা জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি ও লোকালয় থেকে সাপগুলো ধরে আনেন। সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬ সকালে উদ্ধার করা সাপগুলো পরে হবিগঞ্জের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর মধ্যে ৭০টি পদ্মা গোখরা, ৬০টি কৈয়া গোখরা এবং ৫টি দারাস রয়েছে। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৫টি সাপের ডিম। এরই মধ্যে কয়েকটি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেছে।
- উদ্ধার হওয়া সাপের মোট সংখ্যা: ১৩৭টি
- উদ্ধারস্থল: হবিগঞ্জের বিভিন্ন বসতবাড়ি ও লোকালয়
- হস্তান্তরের স্থান: সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকার বন বিভাগীয় কার্যালয়
অবমুক্তির স্থান নির্ধারণ
উদ্ধারের পর সাপগুলো রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে অবমুক্ত করার জন্য নেওয়া হয়েছিল। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সেখানে অবমুক্ত না করে সাপগুলো হবিগঞ্জ বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সাপ কোথায় অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে বন বিভাগে আলোচনা চলছিল।
বন বিভাগ জানিয়েছে, লোকালয়ের কাছাকাছি বা ঘনবসতিপূর্ণ কোনো এলাকায় সাপগুলো ছাড়া হবে না। মানুষের নিরাপত্তা এবং সাপগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ—দুই বিষয় বিবেচনা করে প্রাকৃতিক স্থান নির্বাচন করা হচ্ছে। স্থান নির্ধারণের পর সাপগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন।
উদ্ধার অভিযানের প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের স্থান থেকে সাপগুলোর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। লোকালয়ে সাপ দেখা দেওয়ার পর জীববৈচিত্র্য ফেডারেশনের সদস্যরা সেগুলো উদ্ধার করেন। বর্তমানে সাপগুলো বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
বন বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ধারণের পর সাপগুলো রেমা-কালেঙ্গা, সাতছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ বিভিন্ন বনে অবমুক্ত করা হবে।