সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে পিয়াইন নদীতে বালু উত্তোলনের সময় মাটির স্তূপ ধসে বারেক মিয়া নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ৩১ অক্টোবর সকালে উপজেলার নয়াবস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নদীতে কাজের সময় মাটির স্তূপ ধস
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো জীবিকার জন্য বারেক মিয়া শনিবার সকালে পিয়াইন নদীতে বালু তুলতে যান। কাজ চলার সময় নদীর পানির নিচে থাকা মাটির একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে তিনি স্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিখোঁজ হন।
ঘটনাস্থলে থাকা অন্য শ্রমিক ও উদ্ধারকারীরা পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁকে দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রায় ১৫ হাত পানির নিচে চাপা পড়েন
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাটির স্তূপটি নদীর প্রায় ১৫ হাত পানির নিচে ধসে পড়েছিল। নদীতে বালু তোলার সময় আকস্মিক ধসের কারণে শ্রমিকটি চাপা পড়েন। পরে উদ্ধারকারীরা পানির নিচ থেকে তাঁকে তুলে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
নিহত বারেক মিয়া গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১ নম্বর মধ্য জাফলং ইউনিয়নের বাউর ভাগ হাওর (বাংলাবাজার) এলাকার বাসিন্দা। তিনি জংসের মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তাঁকে পাথর শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক বলেন, জাফলংয়ে নদীতে বালু তুলতে গিয়ে মাটির চাপায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে।
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।” — মোঃ ওমর ফারুক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, গোয়াইনঘাট থান
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি
বারেক মিয়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে বালু তুলতে গিয়ে তাঁর প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায়ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।