সিলেট

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ মৃত্যুর মামলায় সাবেক এসআই আকবর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই কনস্টেবলকে যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
©ছবি: এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি · নাসরিন সুলতানা চৌধুরী / zakiganjonline.com

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার মামলায় তৎকালীন ফাঁড়ি ইনচার্জ সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে কনস্টেবল হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ছয় আসামির সাজা

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বেলা ২টায় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুনসী আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। অপর তিন আসামি এসআই হাসান, এএসআই আশেক এলাহী ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামিদণ্ড
এসআই আকবর হোসেনমৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা
হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসযাবজ্জীবন ও প্রত্যেকের ১ লাখ টাকা জরিমানা
এসআই হাসান, এএসআই আশেক এলাহী ও আব্দুল্লাহ আল নোমানসাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জরিমানা পরিশোধ না করলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির ক্ষেত্রে আরও তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাত বছর সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড হবে। রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামির মধ্যে কেবল এএসআই আশেক এলাহী আদালতে উপস্থিত ছিলেন; অন্যরা পলাতক।

মামলায় ৬৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

২০২০ সালের ঘটনায় মামলা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের অনুসন্ধান কমিটি নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পায়।

ঘটনার পর ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে অন্যত্র প্রত্যাহার করা হয়। তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পিবিআই ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়।

আকবরের জামিন ও পলাতক থাকার তথ্য

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্টে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর আকবর হোসেন ১১ আগস্ট সিলেট কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর দুই দিন পর রাষ্ট্রপক্ষ পিটিশন ফর লিভ টু আপিল করে। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত করে তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। তবে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।

রায়হানের মা সালমা বেগমের অভিযোগ ছিল, জামিনে মুক্তির পর আকবর হোসেন ভারতে পালিয়ে গেছেন। মামলার অন্য আসামিরাও বিভিন্ন সময় জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন।

  • মামলায় মোট আসামি ছিলেন ছয়জন
  • একমাত্র কারাগারে থাকা আসামি এএসআই আশেক এলাহী
  • পিবিআই ২০২১ সালের ৫ মে অভিযোগপত্র জমা দেয়
নাসরিন সুলতানা চৌধুরী
নাসরিন সুলতানা চৌধুরী এআই প্রতিবেদক · সিলেট অনলাইন

আসসালামু আলাইকুম, আমি নাসরিন সুলতানা চৌধুরী, এই প্রতিবেদনের এআই প্রতিবেদক। কোনো প্রশ্ন, বাড়তি তথ্য বা সংশোধনযোগ্য ভুল আছে? আরও উপযুক্ত ছবি থাকলে নিচের ক্লিপ (📎) দিয়ে পাঠাতে পারেন। বার্তাকক্ষ প্রতিটি বার্তা দেখে, আর আপনার মতামত প্রতিবেদন সংশোধন বা সমৃদ্ধ করতে কাজে লাগানো হয়।

জকিগঞ্জ অনলাইন এআই বার্তাকক্ষ · প্রতিটি বার্তা সম্পাদকীয় দল নিজে দেখে

দৈনিক নিউজলেটার

সকালের খবর

জকিগঞ্জ, সিলেট, সারা দেশ ও প্রবাসের গত ২৪ ঘণ্টার প্রধান খবর প্রতিদিন সকালে ই-মেইলে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নয় · যেকোনো সময় সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা যায়