নয় মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে পর্যটকদের জন্য আবার খুলেছে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ। পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এই পর্যটন মৌসুমে দৈনিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে।
১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটন চলবে
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২৫ অক্টোবর জারি করা আদেশ অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন। এ সময় কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। দ্বীপ ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
ভ্রমণে থাকছে বিধিনিষেধ
সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের জন্য আগের মতোই কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ছেড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- জাহাজ ছাড়বে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে
- দৈনিক পর্যটক প্রবেশের সীমা সাড়ে ৩ হাজার
- ছেড়াদ্বীপে পর্যটকদের যাওয়া যাবে না
- দ্বীপে যেতে নির্ধারিত ফি দিতে হবে
হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রস্তুতি
পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে সেন্টমার্টিনের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ চলেছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরাও পর্যটক গ্রহণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা নয় মাস সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ছিল। নির্ধারিত বন্ধের সময় শেষ হওয়ার পর ১ নভেম্বর দ্বীপটি আবার পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
পরিবেশ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা
১২ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত, অবস্থানের সময়সীমা, দৈনিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা এবং জাহাজ ছাড়ার স্থান নিয়ে আলোচনা হয়। সভার পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, পর্যটন পরিচালনার ক্ষেত্রে দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনা করা হবে।
“সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের সময়সীমা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান নিয়ে বিদ্যমান নির্দেশনা পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার কথাও জানানো হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পর্যটন শুরুর তারিখ | ১ নভেম্বর ২০২৬ |
| পর্যটন চলবে | ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত |
| দৈনিক পর্যটকসীমা | সাড়ে ৩ হাজার |
| জাহাজ ছাড়ার স্থান | নুনিয়াছড়া ঘাট, কক্সবাজার |
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নির্দেশনাই কার্যকর থাকবে।