কমিশনের সারসংক্ষেপ
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপস্থাপিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে একাধিক দেশে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানবপাচার নেটওয়ার্কগুলো যৌথভাবে প্রতারণা ও চাপ প্রয়োগ করে বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করিয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের নামসহ অন্তত ২৯ টি দেশের নাগরিক শিকার হয়েছেন এবং কমিশন মোট ৪৮টি দেশের নাগরিকদের অংশ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছিল।
কিভাবে বাধ্য করা হচ্ছিল
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিয়োগকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যাম ও বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বেসামরিক চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আকৃষ্ট করত। বিজ্ঞাপনে নিরাপত্তা কর্মী, চালক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, নির্মাণশ্রমিক, ওয়েল্ডার ও টেকনিশিয়ান ইত্যাদি বেসামরিক পদের প্রতিশ্রুতি, উচ্চ বেতন, আবাসন ও রাশিয়ান নাগরিকত্বের সুবিধার কথা বলা হত। এজেন্টরা ভিসা, বিমানের টিকিট এবং আবাসনের ব্যবস্থা করত এবং কখনও কখনও প্রার্থীদের একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে রওনা করানো হতো।
প্রতারণার কৌশল ও আর্থিক দায়বদ্ধতা
এজেন্টরা প্রার্থীদের কাছে বিভিন্ন ফি নিত—from ৪০০ থেকে ৮০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত—কখনও দেশ ছাড়ার আগে পরিশোধ করানো হত, আবার কোথাও বেতন থেকে কেটে নেয়া হত। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেককে অস্থায়ী আবাসনে নিয়ে রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কখনও অনূঠিত বা অসম্পূর্ণ কাগজে স্বাক্ষর করানো হত, যাতে তাঁদের আসল দায়বদ্ধতা লুকিয়ে রাখা যায়।
ভুক্তভোগীর বৈশিষ্ট্য ও পরিণতি
- কমিশন বলেছে শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীরা সবাই পুরুষ এবং তাঁদের বয়সপরিসর ছিল ১৮ থেকে ৬০ বছর।
- অধিকাংশই আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা বা তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষাগত যোগ্যতার জনগোষ্ঠীর মানুষ ছিলেন।
- রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেককে সরাসরি সামরিক দায়িত্বে পাঠানো হয়; কিছু ভুক্তভোগী নিহত, আহত, আটক বা নিখোঁজ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈশ্বিক বিস্তৃতি ও বিশেষ উল্লেখ
কমিশন যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের, শ্রীলঙ্কার, নেপালের, ফিলিপাইনের, ঘানার, নাইজেরিয়ার, কেনিয়ার ও উজবেকিস্তানের নাগরিকদের নিয়োগের প্রমাণের কথা রয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা এভাবে শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
| অনুসন্ধান | সংখ্যা |
|---|---|
| রিপোর্টে অনুসন্ধানকৃত দেশ | ৪৮ |
| প্রমাণ পাওয়া দেশ | ২৯ |
প্রকাশ ও উপস্থাপন
এই প্রতিবেদনের মূল অংশটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা হালনাগাদ নথি হিসেবে ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। কমিশন মানবপাচার ও জোরপূর্বক নিয়োগের বিষয়গুলো গভীরভাবে তদন্ত করেছে এবং প্রতিবেদনে এসব প্রক্রিয়ার তথ্য ও কেস উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ সংক্রান্ত কৌশল, নিয়োগকারীদের ব্যবহার করা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ও ভিসা-প্রক্রিয়া এবং ভুক্তভোগীদের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর আলোকপাত করেছে।